কুড়িগ্রামের উলিপুরে অভ্যান্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহে লটারীর মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন ও ধান সংগ্রহের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতায় নেই কৃষক।  বৃহস্পতিবার (২৫ মে) সকালে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতিকে দিয়ে অনলাইনে কৃষক নির্বাচনের লটারীর উদ্বোধন করা হয়। এরপর দুপুরে সরকারি খাদ্যগুদামে কৃষক ছাড়াই ধান ক্রয় শুরু করা হয়। এদিকে লটারিতে নির্বাচিত নামের তালিকা প্রকাশ না করায় কৃষকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।  
উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদে অভ্যান্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহে অনলাইনে কৃষক নির্বাচনের লটারীর উদ্বোধন করা হয়। লটারীতে উপজেলার ৭শ ৬০ জন কৃষক নির্বাচিত হন। তারমধ্যে ৩শ ৮০ জন ক্ষুদ্র কৃষক, ২শ ২৮ জন মাঝারি কৃষক ও ১শ ৫২ জন বড় কৃষক বাছাই করা হয়। এ মৌসুমে ৩২ টাকা কেজি দরে ২ হাজার ২শ ৮০ মেঃ টন ধান ও ৪৫ টাকা কেজি দরে ১ হাজার ৩শ ১১ মেঃ টন চাল সংগ্রহ করা হবে।
এদিকে উপজেলা পরিষদে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকের উপস্থিতি ছাড়াই অনলাইনে লটারী সম্পূর্ণ করা হয়। কৃষক নির্বাচনী লটারী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নজরুল ইসলামকে দিয়ে উদ্বোধন করা হয়। এ সময় সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর দুপুরে সরকারি খাদ্যগুদামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে সঙ্গে নিয়ে কৃষক ছাড়াই ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় লটারীতে নির্বাচিত ও প্রান্তিক পর্যায়ের কোন কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হয়নি। শুরুতেই সরকারি ভাবে ধান ক্রয়ে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের আধিপত্য বিস্তারে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের ধারনা প্রতি বোরো মৌসুমের মত এ বছরের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কৃষকদের বঞ্চিত করে নানা কৌশলে নিজেরাই গুদামে ধান দিবেন। এ কারনে কৃষক ধানের ন্যয্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সরকারের মহতি উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার সকালে লটারী হলেও অজ্ঞাত কারনে নির্বাচিত কৃষকদের নামের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম অনলাইনে কৃষক বাছাইয়ে লটারীর সূচনা করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি সেখানে ছিলাম। উপস্থিত সবাই আমাকে দিয়ে লটারীর সূচনা করেছেন মাত্র।
মিল চাতাল মালিক সমিতির সভাপতি ও তবকপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি রেজাউল করিম রাজা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি শুধু চাল দিয়েছি। কোন কৃষক ধান দিয়েছে এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিসবাহুল হোসাইন সকালে ছাত্রলীগের সভাপতি মাধ্যমে অনলাইনে ধান সংগ্রহের লটারীর উদ্বোধনের কথা স্বীকার করে বলেন, কোন কৃষকের কাছ থেকে ধান নেয়া হয়নি। নিয়ম রক্ষার জন্য সরকারি খাদ্য গুদামে আনুষ্ঠানিক ভাবে ধান ক্রয়ের উদ্বোধন করা হয়েছে। এগুলো কোন বিষয় না। লটারীতে নির্বাচিত কৃষকের তালিকা প্রকাশ না করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী রোববার সংশ্লিষ্ট অফিসে এ তালিকা ঝুলিয়ে দেয়া হবে।  
উপজেলা ধান সংগ্রহ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতাউর রহমান বলেন, লটারীর সময় কৃষকের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দায়িত্ব খাদ্য বিভাগের। কেনো তা করা হয়নি তা খতিয়ে দেখা হবে। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট কর্তৃক ধান ক্রয়ের উদ্বোধনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ