কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধ ভাবে তোলা বালু মহালে গভীর রাতে আবারো হানা দিয়েছে সরকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এসময় ঘটনাস্থল থেকে বালুভর্তি দুইটি ট্রাক ও পরিত্যক্ত অবস্থায় দুইটি মোটরসাইকেল আটক করা হয়। 
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদ তীরবর্তী হাতিয়ার গ্রাম ঘাট এলাকায় বেশকিছু দিন ধরে  মাইদুল, জিয়া,বাবুসহ কতিপয় ব্যাক্তি অবৈধ বালু উত্তোলনকারী একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলে।  তাদের বেপরোয়া ভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হলে বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে আসে। 
এসব অবৈধ বালু উত্তোলনের ব্যাপারে অনুসন্ধান করতে গেলে সিন্ডিকেট সদস্যরা এসব বালু পানি উন্নয়ন বোর্ডের তীর রক্ষা কাজে এখানে নিয়োজিত ঠিকাদার গুণবাবুর কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার আওতায় মোগল বাসা এলাকার অন্য একটি ঠিকাদারি সাইডে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করে আসছিলেন। শুধু তাই নয়, তাদের শেখানো মতে স্থানীয় দোকানদার, আশপাশের লোকজন এবং পাথর ভাঙ্গা শ্রমিকরাও একই রকম দাবি করে আসছিল। এরকম পরিস্থিতিতে সোমবার দিবাগত রাত ১১ টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উলিপুর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মাহমুদুর রহমান, উলিপুর থানার এস আই মামুনসহ পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘাট এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালান। ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ অবৈধ বালু মহালে পৌছালে তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অবৈধ বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্য মাইদুল,জিয়া ও বাবু তাদের মটরসাইকেল ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ সময় বালুভর্তি একটি ট্রাক্টরও রেখে যায় এক ড্রাইভার। তবে একটি ১০ চাকার ড্রাম ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপারকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। রাত ১১ টা থেকে প্রায় রাত ১ টা পর্যন্ত ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে অপেক্ষা করে সেখানকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুন বাবুর কোন প্রতিনিধিকে সাইডে উপস্থিত পাননি। অবৈধ বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদেরও আটক করা সম্ভব হয়নি। 
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে প্রকৃত অর্থে বালুগুলো কার তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশনাল অফিসার নজরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। 
এ অবস্থায় দু'টি মোটরসাইকেল ও বালুভর্তি ১টি ট্রাক্টর ও ১ টি হাইড্রোলিক ড্রাম ট্র্যাক আটক করে উলিপুর থানায় নিয়ে এসে পুলিশের জিম্মায় রাখেন। অভিযান কালে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত বেশ কিছু পাই ব্যবহার অনুপোযোগী করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শিতা জানায়। অভিযোগ রয়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত কতিপয় প্রকৌশলী ও কর্মচারীদের সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে একটি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পন্থায় নদী থেকে বালু তুলে নির্বিঘ্নে জেলা ও জেলার বাইরে বিক্রি করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে। উল্লেখ্য সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ পার্শ্ববর্তী এরকম একটি অবৈধ বালু মহাল পালের ঘাট থেকে অবৈধ ভাবে বালু বিক্রি বন্ধ করে দেন। 
সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মাহমুদুর রহমান অভিযান পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এরা অপরাধী জন্য সবকিছু ফেলে রেখে গা ঢাকা দিয়েছে। যেকোনো মূল্যে অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ